ছবিঃ সংগৃহীত
প্রাচীন স্থাপত্য, বিস্তৃত ক্যাম্পাস আর দীর্ঘদিনের শিক্ষা-ঐতিহ্য—সব মিলিয়ে উত্তরাঞ্চলের অন্যতম পরিচিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সৈয়দপুর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়। ১৯০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরের এ বিদ্যালয়টি দীর্ঘ সময় ধরে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে আসছে। তবে ঐতিহ্যবাহী মূল ভবনটির সংস্কার এখন সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে।
শুরুতে বিদ্যালয়টির নাম ছিল সৈয়দপুর বাংলা স্কুল। পরবর্তী সময়ে পাইলট প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত হলে এটি সৈয়দপুর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় নামে পরিচিতি লাভ করে। দীর্ঘ পথচলায় এ প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষা নিয়ে হাজারো শিক্ষার্থী দেশে-বিদেশে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সুনাম অর্জন করেছেন।
সৈয়দপুর শহরের ব্যস্ততম এলাকায় অবস্থিত বিদ্যালয়টির প্রাচীন স্থাপত্যশৈলী এখনো পথচারী ও দর্শনার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। সময়ের সঙ্গে আধুনিকতার ছোঁয়া লাগলেও ঐতিহ্যবাহী ভবনটি ধরে রেখেছে নিজস্ব বৈশিষ্ট্য। বিদ্যালয়ে রয়েছে প্রশস্ত ক্যাম্পাস ও খেলার মাঠ। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার জন্য রয়েছে আইএলসি কম্পিউটার ল্যাব, বিজ্ঞানাগার ও মাল্টিমিডিয়া শ্রেণিকক্ষ। এ ছাড়া নিজস্ব অর্থায়নে পরিচালিত গ্রন্থাগার, নামাজঘর এবং শিক্ষকদের আবাসিক সুবিধাও রয়েছে।
দক্ষ ও অভিজ্ঞ শিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত বিদ্যালয়টিতে পাঠ্যক্রমের পাশাপাশি জ্ঞান-বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, নৈতিকতা ও সহশিক্ষা কার্যক্রমের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। ফলে শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবইয়ের জ্ঞানের পাশাপাশি অন্যান্য ক্ষেত্রে দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
স্থানীয় জ্যেষ্ঠ সংবাদকর্মী আমিরুজ্জামান বলেন, সৈয়দপুরের শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সামাজিক ইতিহাসের সঙ্গে বিদ্যালয়টির সম্পর্ক গভীর। দীর্ঘ সময় ধরে প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষার্থী গড়ে তোলার পাশাপাশি এলাকার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিকাশেও ভূমিকা রেখে চলেছে। তাঁর মতে, আধুনিক শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের পাশাপাশি বিদ্যালয়টির পুরোনো স্থাপত্য সংরক্ষণ করা গেলে তা উত্তরাঞ্চলের শিক্ষা ও ঐতিহ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হয়ে থাকবে।